মূল কন্টেন্টে যান

আমরা নিয়মিত তথ্য যোগ ও যাচাই করছি। কোনো তথ্য অনুপস্থিত বা ভুল মনে হলে আমাদের জানান, আমাদের টিম কাজ করছে। জানান

MedIndex
World Kidney Day awareness illustration showing healthy kidneys, blood pressure check and people learning about kidney health

স্বাস্থ্য দিবসSecond Thursday of March

বিশ্ব কিডনি দিবস

প্রতি বছর মার্চের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত হয় কিডনি স্বাস্থ্য, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (CKD) এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ নেফ্রোলজি (ISN) ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ কিডনি ফাউন্ডেশনস (IFKF)–এর যৌথ উদ্যোগে এ দিবসে বিশ্বজুড়ে নেফ্রোলজিস্ট, সাধারণ চিকিৎসক, রোগী, নীতিনির্ধারক ও কমিউনিটি একসাথে কাজ করে।

দিবসটি মনে করিয়ে দেয় যে কিডনি নীরবে রক্ত পরিশোধন করে, বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়, দেহের লবণ–খনিজের ভারসাম্য রক্ষা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হাড় ও রক্তকণিকা সুস্থ রাখে। কিডনি নষ্ট হতে থাকলে দেহে বর্জ্য জমে গিয়ে ক্লান্তি, ফোলাভাব, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তশূন্যতা, হাড় দুর্বলতা, হৃদরোগ এবং শেষ পর্যন্ত কিডনি বিকল হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত স্পষ্ট লক্ষণ না থাকায় অনেকেই বুঝতে না পেরে দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যান।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ খুবই সাধারণ এবং অনেক সময় নীরবে বেড়ে ওঠে। ধারণা করা হয়, বিশ্বব্যাপী প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় প্রতি ১০ জনে ১ জন কোনো না কোনো পর্যায়ের CKD–তে ভুগছেন, কিন্তু বেশিরভাগই নির্ণীত নন। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কিডনি বিকলের দু’টি প্রধান কারণ; এর সাথে আছে গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস, বারবার কিডনি ইনফেকশন, কিছু ব্যথার ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন, চিকিত্সাহীন কিডনি পাথর ইত্যাদি। CKD হলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং অনেকের শেষ পর্যন্ত ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়, যা ব্যয়বহুল এবং বেশিরভাগ মানুষের নাগালের বাইরে।

বিশ্ব কিডনি দিবস গুরুত্বপূর্ণ কারণ খুব সহজ ও স্বল্প ব্যয়ী কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনি রোগ অনেক আগে ধরা যায়। নিয়মিত রক্তচাপ মাপা, রক্তে শর্করা পরীক্ষা, রক্তে ক্রিয়াটিনিন ও eGFR পরীক্ষা এবং প্রস্রাবে প্রোটিন আছে কি না দেখা—এসবের মাধ্যমে উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের চিহ্নিত করা যায়। দিবসটি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রান্না ও বাজারের খাবারে লবণ কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান থেকে বিরত থাকা এবং অকারণে ব্যথার ওষুধ বা অজানা ভেষজ ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকার বার্তা দেয়। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কিডনি পরীক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ফলোআপ সেবা সবার নাগালে আনার দাবিও তুলে ধরে।

ইতিহাস

বিশ্ব কিডনি দিবস প্রথম পালিত হয় ২০০৬ সালে, যখন ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ নেফ্রোলজি ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ কিডনি ফাউন্ডেশনস বিশ্বব্যাপী একটি যৌথ ক্যাম্পেইন শুরু করে। তারা দেখেছিল যে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ দ্রুত বেড়ে চলেছে, কিন্তু ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো অন্যান্য অসংক্রামক রোগের তুলনায় এ বিষয়ে জনসচেতনতা ও নীতিগত গুরুত্ব অনেক কম। তাই মার্চের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবারকে বিশ্ব কিডনি দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়, যাতে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে বিশ্বজুড়ে এ দিনটি পালন করা যায়।

প্রতিবছর বিশ্ব কিডনি দিবসে একটি নির্দিষ্ট থিম নির্ধারণ করা হয়—যেমন স্থূলতা ও কিডনি রোগ, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কিডনি স্বাস্থ্য, হৃদয় ও কিডনির সম্পর্ক, অথবা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের স্ক্রিনিং–এর গুরুত্ব ইত্যাদি। এ থিমকে ঘিরে বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী সংগঠন, হাসপাতাল ও এনজিও সেমিনার, ফ্রি স্ক্রিনিং ক্যাম্প, গণমাধ্যম প্রচারণা, স্কুল ও কর্মস্থলভিত্তিক কর্মসূচি এবং নীতিনির্ধারকদের সাথে সংলাপ আয়োজন করে। সময়ের সাথে সাথে বিশ্ব কিডনি দিবস কিডনি সেবায় সমতা, ডায়ালাইসিস ও প্রতিস্থাপনে প্রবেশাধিকার এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যের সাথে কিডনি স্বাস্থ্যকে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।

মূল তথ্য

Common kidney problems

  • দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (CKD)
  • আকস্মিক কিডনি বিকল
  • কিডনি পাথর
  • গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস
  • কিডনিতে ছড়িয়ে পড়া মূত্রনালীর সংক্রমণ
  • বংশগত কিডনি রোগ (যেমন পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ)

Global burden

  • বিশ্বব্যাপী বিপুলসংখ্যক মানুষ CKD–তে ভুগছেন; নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে প্রায়ই দেরিতে ধরা পড়ে; প্রতিবছর বহু মানুষ কিডনি বিকলে ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয় পর্যায়ে পৌঁছান

Risk factors

  • ডায়াবেটিস
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস
  • স্থূলতা
  • ধূমপান
  • বয়স্ক বয়স
  • দীর্ঘদিন কিছু ব্যথার ওষুধ সেবন
  • চিকিত্সাহীন মূত্রনালীর সংক্রমণ
  • হৃদরোগ

Prevention methods

  • রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
  • লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া
  • নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ
  • অকারণে ব্যথার ওষুধ না খাওয়া
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান
  • উচ্চ ঝুঁকিতে থাকলে নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা

Who is affected

  • ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রোগী
  • হৃদরোগী
  • পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকা ব্যক্তি
  • বয়স্ক জনগোষ্ঠী
  • গ্রামীণ বা স্বল্প-সম্পদ এলাকায় বসবাসকারী যাদের কাছে বিশেষায়িত কিডনি সেবার প্রবেশাধিকার সীমিত

বাংলাদেশে

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও আয়ু বৃদ্ধির সাথে সাথে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের বোঝা দ্রুত বাড়ছে। অনেক রোগী তখনই ডাক্তার দেখান যখন পা–মুখ ফুলে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, প্রচণ্ড দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট বা নিয়ন্ত্রণহীন উচ্চ রক্তচাপের মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়। এ পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যয়বহুল, জটিল এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

বাংলাদেশে ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপন সেবা মূলত ঢাকা ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক। সরকারি হাসপাতাল, কিছু বেসরকারি কেন্দ্র ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ডায়ালাইসিস সেবা দিলেও যাতায়াত, ওষুধ ও আয়ের ক্ষতি–সহ সামগ্রিক ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে। অনেক রোগী সপ্তাহে প্রস্তাবিত সংখ্যক ডায়ালাইসিস সেশন নিতে পারেন না এবং খুব অল্প সংখ্যক মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপন ও আজীবন ওষুধের খরচ বহন করতে সক্ষম হন।

বিশ্ব কিডনি দিবস বাংলাদেশে প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের বার্তা ছড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। নেফ্রোলজিস্ট, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রান্নায় ও খাবারে লবণ কমানো, অকারণে ব্যথার ওষুধ না খাওয়া, এবং পা–মুখ ফোলা, প্রস্রাবে ফেনা, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা দীর্ঘদিন কোমর ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দেন। অনেক হাসপাতাল ও এনজিও বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, ক্রিয়াটিনিন ও প্রস্রাব পরীক্ষার ক্যাম্প আয়োজন করে।

বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত কিডনি হাসপাতাল ও এনজিও টেলিভিশন, রেডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মসজিদ, স্কুল ও কর্মস্থলের মাধ্যমে কিডনি বান্ধব জীবনযাপনের বার্তা ছড়ায়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত ডাক্তার ও নার্সদের CKD আগেভাগে চেনা, রোগীকে পরামর্শ দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নেফ্রোলজিস্টের কাছে রেফার করার প্রশিক্ষণেও গুরুত্ব বাড়ছে। পাশাপাশি সরকারি ডায়ালাইসিস সুবিধা বাড়ানো, দরিদ্র রোগীদের জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালু এবং কিডনি প্রতিস্থাপন সেবার সামর্থ্য বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ব কিডনি দিবসের বৈশ্বিক আন্দোলনের সাথে এসব স্থানীয় উদ্যোগকে যুক্ত করে বাংলাদেশ কিডনি রোগের বোঝা কমানো এবং কিডনি সেবায় সমতা আনার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বিশ্ব কিডনি দিবস কী এবং কবে পালিত হয়?
বিশ্ব কিডনি দিবস প্রতি বছর মার্চের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার পালিত একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য দিবস, যার লক্ষ্য কিডনি স্বাস্থ্য, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের প্রধান কারণ কী?
বিশ্বব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের সবচেয়ে সাধারণ দুটি কারণ হলো ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। এর পাশাপাশি গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস, বারবার কিডনি ইনফেকশন, কিছু ব্যথার ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন এবং চিকিত্সাহীন কিডনি পাথরও কিডনি নষ্টের কারণ হতে পারে।
কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে কি স্পষ্ট লক্ষণ থাকে?
অনেক ক্ষেত্রেই কিডনি রোগের শুরুর দিকে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তাই বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, ক্রিয়াটিনিন ও eGFR পরীক্ষা এবং প্রস্রাবে প্রোটিন আছে কি না তা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অগ্রসর পর্যায়ের কিডনি রোগের কিছু সাধারণ লক্ষণ কী?
পা, গোড়ালি বা মুখ ফোলা, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা, সবসময় ক্লান্তি লাগা, ক্ষুধামন্দা, বমি ভাব, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট এবং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন এমন উচ্চ রক্তচাপ—এগুলো অগ্রসর পর্যায়ের কিডনি রোগের লক্ষণ হতে পারে।
কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে কী করা যেতে পারে?
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করে ওজন স্বাভাবিক রাখা, ধূমপান থেকে বিরত থাকা, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পানি পান করা এবং অকারণে ব্যথার ওষুধ বা অজানা ভেষজ ওষুধ না খাওয়া—এসব অভ্যাস কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশে ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের অবস্থা কী?
বাংলাদেশে ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপন সেবার বেশিরভাগই ঢাকা ও কয়েকটি বড় শহরে কেন্দ্রীভূত। সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী কিছু প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম খরচে সেবা মিললেও যাতায়াত, ওষুধ ও আয়ের ক্ষতি মিলিয়ে অনেক রোগীর পক্ষে নিয়মিত ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপনের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই পাতা শেয়ার করুন