মূল কন্টেন্টে যান

আমরা নিয়মিত তথ্য যোগ ও যাচাই করছি। কোনো তথ্য অনুপস্থিত বা ভুল মনে হলে আমাদের জানান, আমাদের টিম কাজ করছে। জানান

MedIndex
World Oral Health Day awareness illustration showing a dentist, healthy teeth, toothbrush and children learning proper brushing

স্বাস্থ্য দিবসMarch 20

বিশ্ব মৌখিক স্বাস্থ্য দিবস

প্রতি বছর ২০ মার্চ বিশ্ব মুখগহ্বর স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়, যার লক্ষ্য সুস্থ দাঁত, মাড়ি ও মুখগহ্বরের গুরুত্ব সম্পর্কে সারা বিশ্বে সচেতনতা বাড়ানো। FDI ওয়ার্ল্ড ডেন্টাল ফেডারেশনের নেতৃত্বে এ দিবসে দন্ত চিকিৎসক, ওরাল হাইজিনিস্ট, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, স্কুল ও কমিউনিটি একসাথে কাজ করে যেন মানুষ ছোটবেলা থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত ভালো মুখগহ্বর স্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারে।

মুখগহ্বর স্বাস্থ্য শুধুই সুন্দর হাসির জন্য নয়; এটি খাওয়া, কথা বলা, আত্মবিশ্বাস এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত। চিকিত্সাহীন দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ ও মুখের সংক্রমণে তীব্র ব্যথা, খাওয়াতে ও চিবাতে অসুবিধা, কথাবার্তায় সমস্যা, স্কুল বা কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও লজ্জাবোধসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। খারাপ মুখগহ্বর স্বাস্থ্য ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং গর্ভাবস্থার জটিলতার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। অথচ অধিকাংশ মুখগহ্বর রোগ সহজ কিছু অভ্যাস ও নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য

ইতিহাস ও মূল তথ্য

বিশ্ব মুখগহ্বর স্বাস্থ্য দিবসের ধারণা অনেক আগে থেকে থাকলেও ২০১৩ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি বছর ২০ মার্চ এই দিবসটি পালিত হচ্ছে, FDI ওয়ার্ল্ড ডেন্টাল ফেডারেশনের নেতৃত্বে। ২০/৩ তারিখটি বেছে নেওয়ার পেছনে এক প্রতীকী বার্তা রয়েছে—বয়স্ক মানুষের কমপক্ষে ২০টি প্রাকৃতিক দাঁত থাকা এবং শিশুর মুখে ২০টি দুধ দাঁত থাকা, যা জীবনচক্রজুড়ে মুখগহ্বর স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বোঝায়।

বর্ষপঞ্জি

  • ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর ২০ মার্চ ভিন্ন ভিন্ন থিম নিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে
  • যেমন – “Say Ahh”
  • “Be Proud of Your Mouth” ইত্যাদি।

বিশ্বব্যাপী বোঝা

  • অনুমান করা হয়
  • বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মুখগহ্বর রোগে ভুগছেন
  • যা সবচেয়ে সাধারণ অসংক্রামক রোগগুলোর একটি।

সাধারণ সমস্যা

  • দাঁতের গর্ত বা ক্ষয়
  • মাড়ির প্রদাহ ও সংক্রমণ
  • দাঁত নড়বড়ে ও পড়ে যাওয়া
  • মুখগহ্বর ক্যান্সার
  • মুখের সংক্রমণ এবং দাঁত–চোয়ালে আঘাত বা ভাঙা।

ঝুঁকির কারণ

  • বারবার মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার–পানীয় খাওয়া
  • সঠিকভাবে ব্রাশ ও ফ্লস না করা
  • তামাক ও পান–সুপারি সেবন
  • অ্যালকোহলের অপব্যবহার এবং নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের কাছে না যাওয়া।

প্রতিরোধের উপায়

  • দিনে দুইবার ফ্লোরাইড টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করা
  • দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখা
  • মিষ্টি ও কোমল পানীয় কম খাওয়া
  • তামাক ও পান–সুপারি পরিহার করা এবং বছরে অন্তত একবার দন্ত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চেকআপ করানো।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

মুখগহ্বর রোগ সাধারণ হলেও দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকে, কারণ শুরুতে ব্যথা বা বড় কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। ফলে অনেকেই দাঁত ভাঙা–পচা বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়া দেখেও চিকিৎসা নেন না, যতক্ষণ না ব্যথা অসহনীয় হয়। তখন চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে যায়; দাঁত রক্ষার বদলে অনেক সময় তুলতে হয়।

বিশ্ব মুখগহ্বর স্বাস্থ্য দিবস মানুষকে “ব্যথা হলে তখন চিকিৎসা” ভাবনা থেকে বের করে এনে “আগে থেকে যত্ন ও নিয়মিত চেকআপ”–এর মানসিকতা গড়ে তুলতে উৎসাহ দেয়। এ দিবসের মূল বার্তার মধ্যে রয়েছে – দিনে দুইবার ফ্লোরাইড টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করা, নরম ব্রাশ ও সঠিক কৌশল ব্যবহার, দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখা, বারবার মিষ্টি খাবার না খাওয়া, নিরাপদ পানি পান করা, তামাক ও পান–সুপারি বর্জন এবং কোনো উপসর্গ না থাকলেও নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে মুখগহ্বর পরীক্ষা করানো। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যনীতি ও পরিকল্পনায় মুখগহ্বর স্বাস্থ্যকে যুক্ত করা, সুলভমুল্যে ফ্লোরাইডযুক্ত পণ্য ও দন্ত সেবা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে

বাংলাদেশে মুখগহ্বর স্বাস্থ্য সমস্যা ব্যাপক হলেও সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম। অনেকেই বছরের পর বছর দাঁতের গর্ত, মাড়ি ফোলা, দুর্গন্ধ, দাঁত নড়বড়ে হওয়া বা ভাঙা দাঁত নিয়ে বেঁচে থাকেন। বেশিরভাগ মানুষ ব্যথা অসহ্য না হওয়া পর্যন্ত দন্ত চিকিৎসকের কাছে যান না; ফলে সহজ ফিলিংয়ের মাধ্যমে দাঁত বাঁচানোর সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

পান–সুপারি, জর্দা, গুল, খৈনি ও ধূমপানের মতো অভ্যাস বাংলাদেশে মুখগহ্বর ক্যান্সার ও মাড়ির রোগের বড় কারণ। চা–বিস্কুট, মিষ্টি, কোমল পানীয় ও মিষ্টি স্ন্যাকসের অভ্যাস শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের দাঁতে গর্তের ঝুঁকি বাড়ায়। গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকায় দক্ষ দন্ত চিকিৎসক ও সাশ্রয়ী দন্ত চিকিৎসা সুবিধা সীমিত হওয়ায় অনেকেই অদক্ষ “দন্ত টানা”কারীর কাছে যান, যা প্রায়ই বেশি ক্ষতির কারণ হয়।

বিশ্ব মুখগহ্বর স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে দন্ত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, পেশাজীবী সংগঠন ও এনজিও–গুলো র‌্যালি, সেমিনার, পোস্টার প্রদর্শনী, স্কুলভিত্তিক ব্রাশিং ডেমোনস্ট্রেশন এবং ফ্রি ডেন্টাল চেকআপ ক্যাম্প আয়োজন করে। শিশুদের সঠিকভাবে ব্রাশ শেখানো, তামাক ও পান–সুপারির ক্ষতি বোঝানো, নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা—এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সহজ ভাষায় বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

জাতীয় পর্যায়ে মুখগহ্বর স্বাস্থ্যকে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। স্কুলভিত্তিক ওরাল হেলথ প্রোগ্রাম শক্তিশালী করা, দন্ত চিকিৎসক ও ওরাল হাইজিনিস্টদের প্রশিক্ষণ উন্নত করা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাশ্রয়ী দন্ত সেবা সম্প্রসারণ—এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বা পরিকল্পনায় রয়েছে। বিশ্ব মুখগহ্বর স্বাস্থ্য দিবসের বৈশ্বিক উদ্যোগের সাথে বাংলাদেশের এসব কার্যক্রম যুক্ত হয়ে এমন এক সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে, যেখানে সবাই সুস্থ মুখ, নির্ভার হাসি এবং উন্নত জীবনমান নিয়ে বাঁচতে পারে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বিশ্ব মুখগহ্বর স্বাস্থ্য দিবস কবে পালিত হয়?
প্রতি বছর ২০ মার্চ বিশ্ব মুখগহ্বর স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়। FDI ওয়ার্ল্ড ডেন্টাল ফেডারেশনের নেতৃত্বে এ দিবসের মাধ্যমে মুখগহ্বরের সঠিক যত্ন ও রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হয়।
মুখগহ্বরের বেশিরভাগ সমস্যার কারণ কী?
সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ না করা, বারবার মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার–পানীয় খাওয়া, তামাক ও পান–সুপারি সেবন, দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার না করা এবং নিয়মিত দন্ত পরীক্ষা না করা—এসব কারণে বেশিরভাগ মুখগহ্বর রোগ হয়।
প্রতিদিন কীভাবে মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষা করা যায়?
দিনে দুইবার ফ্লোরাইড টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন, নিয়মিত ফ্লস বা দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করুন, মিষ্টি ও কোমল পানীয় কম খান, তামাক ও পান–সুপারি থেকে দূরে থাকুন এবং বছরে অন্তত একবার দন্ত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চেকআপ করুন।
মুখগহ্বরের রোগ কি অন্য শারীরিক অসুস্থতার সাথে সম্পর্কিত?
হ্যাঁ। অপরিচর্য মুখগহ্বর স্বাস্থ্য ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং গর্ভাবস্থার বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই মুখের যত্ন মানে পুরো শরীরের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া।
শিশুদের জন্য বিশ্ব মুখগহ্বর স্বাস্থ্য দিবস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এই দিবসের মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের দাঁত ব্রাশের সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলা, মিষ্টি খাবার নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত দন্ত পরীক্ষা এবং তামাক–পান–সুপারির ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করা যায়, যা তাদের আজীবন সুস্থ দাঁত, ভালো খাদ্যাভ্যাস, স্পষ্ট কথা বলা ও আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি করে।
এই পাতা শেয়ার করুন