Oncology
ব্রেস্ট সার্জন (ব্রেস্ট ও অনকোপ্লাস্টিক সার্জন / স্তন ক্যান্সার ও স্তন–রোগ বিশেষজ্ঞ)
এই বিশেষত্ব সম্পর্কে
ব্রেস্ট সার্জন হলেন এমন একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন, যিনি স্তনের বিভিন্ন রোগ – বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার, সু–স্বভাবের গিঁট, ইনফেকশন ও বিকৃতি – নির্ণয় ও অপারেশন করে থাকেন। অনেক ব্রেস্ট সার্জন অনকোপ্লাস্টিক সার্জারিতে ট্রেইনড, অর্থাৎ ক্যান্সার কেটে ফেলার পাশাপাশি স্তনের আকৃতি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেন।
ব্রেস্ট সার্জন কী করেন?
- স্তনে গিঁট, নিপল–এর পরিবর্তন, স্তনব্যথা, ইনফেকশন ইত্যাদি সমস্যার রোগীদের মূল্যায়ন করেন।
- স্তন ক্যান্সার ও প্রি–ক্যান্সারাস অবস্থা শনাক্ত ও চিকিৎসা করেন।
- ডায়াগনসিস নিশ্চিত করার জন্য FNAC, কোর–বায়োপসি বা ওপেন–বায়োপসি করেন।
- ব্রেস্ট–কনজারভিং সার্জারি (লাম্পেকটমি), পুরো স্তন কেটে ফেলা (মাস্টেকটমি) ও আন্ডারআর্মের লিম্ফ নোড সার্জারি (সেন্টিনেল/অ্যাক্সিলারি ডিসেকশন) করেন।
- অনকোপ্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির মাধ্যমে ক্যান্সার কেটে ফেলার পরও স্তনের আকৃতি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন।
- অনকোলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, প্যাথোলজিস্টদের সঙ্গে টিম হিসেবে ব্রেস্ট ক্যান্সারের সমন্বিত চিকিৎসা করেন।
ব্রেস্ট সার্জন কীভাবে সাহায্য করেন?
- স্তনের উপসর্গ, আগের রিপোর্ট, ফ্যামিলি–হিস্ট্রি (পরিবারে কারও ব্রেস্ট/ওভারি ক্যান্সার ছিল কি না) ইত্যাদি বিস্তারিত শোনেন।
- দুই স্তন ও দুই বগল ভালোভাবে পরীক্ষা করেন, প্রয়োজনে গলার উপরের লিম্ফ নোডও দেখেন।
- রোগ অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ম্যামোগ্রাফি, এমআরআই, FNAC/কোর–বায়োপসি ইত্যাদি টেস্টের পরামর্শ দেন।
- সহজ ভাষায় সমস্যার ধরন বোঝান এবং কোন ধরনের অপারেশনে কী সুবিধা–ঝুঁকি ও চেহারার কী পরিবর্তন হবে – তা আলোচনা করেন।
- রোগের স্টেজ ও রোগীর ইচ্ছা অনুযায়ী ব্রেস্ট বাঁচিয়ে অপারেশন করা যাবে কি না, মাস্টেকটমি দরকার কি না, রিকনস্ট্রাকশন অপশন আছে কি না – এসব পরিকল্পনা করেন।
- প্রয়োজন হলে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, হরমোন–থেরাপি ইত্যাদি নিয়ে অনকোলজি টিমের সঙ্গে সমন্বিত ট্রীটমেন্ট–প্ল্যান করেন।
কখন ব্রেস্ট সার্জনের কাছে যাবেন?
- স্তন বা বগলে নতুন কোনো গিঁট বা ফোলা টের পেলে – ব্যথা থাকুক বা না থাকুক।
- নিপল থেকে অস্বাভাবিক স্রাব (বিশেষ করে রক্ত মেশানো বা স্বচ্ছ পানি), নিপল ভেতরে ঢুকে যাওয়া, আকার–আকৃতি বদলে যাওয়া।
- স্তনের আকার/আকৃতি হঠাৎ বদলে যাওয়া, ত্বকে দাগ টানা, ডিম্পল, পুরু হয়ে যাওয়া, লালচে বা কমলালেবুর খোসার মতো (পো–দ’অরেঞ্জ) হয়ে যাওয়া।
- এক জায়গায় স্থায়ী ব্যথা, যা সাধারণ চিকিৎসায় ভালো হচ্ছে না।
- স্তনে লালচে ফুলে যাওয়া, পুঁজ হওয়া বা বারবার অ্যাবসেস হওয়া।
- পরিবারে মা/বোন/কাকিমা/ফুফু কারও ব্রেস্ট বা ওভারি ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে, নিজে কোনো উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক – রিস্ক–অ্যাসেসমেন্টের জন্য।
কোন লক্ষণগুলো দ্রুত/আর্জেন্ট মনোযোগ চায়?
- শক্ত, শক্তভাবে আটকানো (ফিক্সড) গিঁট স্তন বা বগলে।
- স্তন লাল–গরম হয়ে যাওয়া, সঙ্গে জ্বর ও তীব্র ব্যথা – অ্যাবসেস বা ইনফ্ল্যামেটরি ক্যান্সারের আশঙ্কা।
- ত্বকের পরিবর্তন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া – বেশি স্ফীতি, ডিম্পল, ক্ষত ইত্যাদি।
- গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কোনো গিঁট বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে।
কোথায় পাবেন ব্রেস্ট সার্জন?
- ক্যান্সার হাসপাতাল ও অনকোলজি সেন্টারের ব্রেস্ট ইউনিটে।
- বড় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সার্জারি/অনকোলজি বিভাগে, যেখানে ব্রেস্ট সার্জারি–ফ্যাসিলিটি আছে।
- কিছু বিশেষায়িত ব্রেস্ট ক্লিনিক ও অনকোপ্লাস্টিক সার্জারি সেন্টারে।
কেন সময়মতো দেখা জরুরি?
- শুরুতেই ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়লে ও দ্রুত অপারেশন করলে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়ে।
- ইনফেকশন বা অ্যাবসেস দ্রুত চিকিৎসা করলে পুঁজ ছড়ানো, সিস্টেমিক ইনফেকশন ও টিস্যু ক্ষতি কম হয়।
- অনকোপ্লাস্টিক টেকনিকের সাহায্যে সময়মতো অপারেশন নিলে স্তনের সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাস ভালো থাকে।
- দেরি করলে ভয়, গুজব, ভুল চিকিৎসা ও “বাড়ির টোটকা”–তে সময় নষ্ট হয়ে রোগ অনেক এগিয়ে যেতে পারে।
ডাক্তারগণ ব্রেস্ট সার্জন (ব্রেস্ট ও অনকোপ্লাস্টিক সার্জন / স্তন ক্যান্সার ও স্তন–রোগ বিশেষজ্ঞ)
এই বিশেষত্বের অধীনে এখনো কোনো ডাক্তার তালিকাভুক্ত হয়নি।
