Colorectal Surgery
কোলন ও রেকটাল সার্জারি (কোলোরেক্টাল সার্জারি)
এই বিশেষত্ব সম্পর্কে
কোলন ও রেকটাল সার্জারি বা কোলোরেক্টাল সার্জারি হলো বৃহদান্ত্র (কোলন), রেকটাম ও মলদ্বারের বিভিন্ন রোগের অস্ত্রোপচারসংক্রান্ত বিশেষ শাখা। কোলোরেক্টাল সার্জনরা পাইলস থেকে শুরু করে জটিল ক্যান্সার পর্যন্ত নানা সমস্যা দেখেন এবং প্রায়ই গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও অনকোলজিস্টের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন।
তারা যা করেন: কোলোরেক্টাল সার্জন পায়ুপথ দিয়ে রক্ত আসা, পায়খানার ধরন বা অভ্যাস বদলে যাওয়া, মলদ্বারে ব্যথা বা ফোলাভাব, গিঁট, পুঁজ পড়া, হঠাৎ পায়খানা ধরে রাখতে না পারা ইত্যাদি উপসর্গ মূল্যায়ন করেন। প্রোকটোস্কপি ও কোলোনোস্কপি করে ভেতরটা দেখেন ও প্রয়োজনে পলিপ কেটে ফেলেন, পাইলস, ফিশার, ফিস্টুলার অস্ত্রোপচার করেন, কোলন ও রেকটালের ক্যান্সার অপারেশন, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজের জটিল অস্ত্রোপচারসহ নানা সার্জারি করেন। আবার প্রয়োজনে কোলস্টমি বা আইলিওস্টমি (পেটের গায়ে পায়খানার পথে স্টোমা তৈরি) করেন ও পরে পরিস্থিতি অনুযায়ী তা বন্ধও করেন।
যেসব সমস্যার চিকিৎসা করেন: কোলোরেক্টাল ক্যান্সার ও পলিপ, পায়ুপথ দিয়ে রক্ত যাওয়া, পাইলস (হেমোরয়েড), পায়ুপথের ফিশার (চিরা) ও ফিস্টুলা, অপারেশন লাগতে পারে এমন আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ক্রোনস ডিজিজ, ডাইভার্টিকুলার ডিজিজের জটিলতা, রেকটাল প্রোল্যাপ্স (রেকটাম বাইরে বের হয়ে আসা), কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য বা পায়খানা ধরে রাখতে না পারা (ইনকন্টিনেন্স) যেখানে গঠনগত সমস্যা থাকে, পায়ুপথের ইনফেকশন ও পেরিয়ানাল অ্যাবসেস।
কখন যাবেন: পায়ুপথ দিয়ে বারবার রক্ত গেলে, পায়খানার সঙ্গে রক্ত মিশে আসলে বা কালচে কালো টারি ধরনের মল এলে; হঠাৎ দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, মল সরু হয়ে যাওয়া বা প্যাটার্ন বদলে গেলে; খাবারে ঠিকমতো না খেলেও দ্রুত ওজন কমে গেলে ও সঙ্গে বাওয়েল উপসর্গ থাকলে; পায়ুপথের কাছে ব্যথাযুক্ত ফোলা, পুঁজ পড়া বা গিঁট হলে; ওষুধেও সাড়া না দেওয়া পুরনো পাইলস থাকলে; কোলোরেক্টাল ক্যান্সার বা পলিপ ধরা পড়লে; অথবা আপনার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা অন্য ডাক্তার যখন বলেন যে এখন অপারেশন প্রয়োজন।
চিকিৎসার পদ্ধতি: বিস্তারিত ইতিহাস নিয়ে পায়ুপথ ও রেকটামের শারীরিক পরীক্ষা করা; প্রোকটোস্কপি ও কোলোনোস্কপি করে কোলন-রেকটাম ভেতর থেকে দেখা ও প্রয়োজনে পলিপ কেটে ফেলা; সন্দেহজনক স্থানের বায়োপসি নিয়ে ক্যান্সার নিশ্চিত করা; কোলন ও রেকটালের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের জন্য ওপেন বা ল্যাপারোস্কোপিক (কি-হোল) সার্জারি করা; নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে স্ট্যাপলার সার্জারির মাধ্যমে পাইলস বা রেকটাল প্রোল্যাপ্সের অপারেশন করা; জটিল ফিস্টুলার জন্য সেটন বা অন্যান্য বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা; প্রয়োজনে কোলস্টমি বা আইলিওস্টমি তৈরি করা এবং পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি অনুকূল হলে তা বন্ধ করার অপারেশন করা; অপারেশনের আগে বাওয়েল প্রিপারেশন ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা; দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার (এনহ্যান্সড রিকভারি) প্রোটোকল অনুসরণ করা; এবং ক্যান্সার হলে দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপ, কোলোনোস্কপি ও অন্যান্য টেস্টের মাধ্যমে নজরদারি করা।
ডাক্তারকে যেসব প্রশ্ন করতে পারেন
অ্যাপয়েন্টমেন্টে সঙ্গে নিয়ে যান।
- 1আমার কোলন বা রেকটামে ঠিক কী সমস্যা হয়েছে—এটি কি সাধারণ গাঁট/পাইলস, নাকি ক্যান্সার বা সিরিয়াস কোনো রোগ?
- 2আমার ক্ষেত্রে কি এখনই অপারেশন জরুরি, নাকি আগে কিছুদিন ওষুধ, ইনজেকশন বা ছোট প্রক্রিয়ায় চেষ্টা করা যায়?
- 3আপনার পরিকল্পিত অপারেশনটি কি ওপেন নাকি ল্যাপারোস্কোপিক হবে এবং এতে কি অস্থায়ী বা স্থায়ী কোলস্টমি/আইলিওস্টমির দরকার পড়তে পারে?
- 4এই অপারেশনের ঝুঁকি, সম্ভাব্য জটিলতা ও সুস্থ হতে মোটামুটি কতদিন লাগতে পারে?
- 5অপারেশনের পর আমার পায়খানার অভ্যাস, খাওয়া-দাওয়া ও দৈনন্দিন জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং নিয়মিত ফলো-আপ ও কোলোনোস্কপিসহ কী কী পরীক্ষা করতে হবে?
ডাক্তারগণ কোলন ও রেকটাল সার্জারি (কোলোরেক্টাল সার্জারি)
এই বিশেষত্বের অধীনে এখনো কোনো ডাক্তার তালিকাভুক্ত হয়নি।
