আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি দিবস প্রতি বছর ৩ ডিসেম্বর পালিত হয়, যার লক্ষ্য হলো সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও পূর্ণ অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরা। এ দিবস মনে করিয়ে দেয় যে প্রতিবন্ধিতা মানব বৈচিত্র্যের একটি অংশ এবং প্রায়ই স্বাস্থ্যগত অবস্থার চেয়ে সামাজিক ও অবকাঠামোগত বাধাই অংশগ্রহণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ১৩০ কোটি মানুষ, অর্থাৎ প্রতি ৬ জনে প্রায় ১ জন উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধিতা নিয়ে জীবনযাপন করেন, যা প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিকে একটি বড় বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকার ইস্যুতে পরিণত করেছে। অনেক ক্ষেত্রে ভবন, তথ্য ও সেবা প্রবেশযোগ্য না হওয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবায় সমানভাবে অংশ নিতে পারেন না। সামাজিক কলঙ্ক ও বৈষম্য তাদেরকে সেবা গ্রহণ ও অধিকার দাবির পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এ দিবস জোর দিয়ে বলে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক স্কুল, প্রবেশযোগ্য কর্মক্ষেত্র, সহায়ক স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন সেবা এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা শুধু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরই নয়, তাদের পরিবার ও পুরো সমাজেরই উপকার করে।
History
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি দিবস ১৯৯২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত হয়, যাতে প্রতিবন্ধী অধিকার ও উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে একটি নির্দিষ্ট বৈশ্বিক দিন নির্ধারিত থাকে। এ দিবস জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশন (CRPD) দ্বারা পথনির্দেশিত, যেখানে জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সম্মান, সুরক্ষা ও বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। বছর বছর এ দিবসের থিম অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, মর্যাদাপূর্ণ কাজ, রাজনৈতিক ও জনজীবনে অংশগ্রহণ, এবং প্রবেশযোগ্য শহর-পরিষেবা ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করে। বিভিন্ন সরকার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন ও সিভিল সোসাইটি এ দিনটিকে অগ্রগতির মূল্যায়ন ও প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে জোরালো দাবি জানানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে।
Key facts
Common conditions
- চলাফেরা-সংক্রান্ত প্রতিবন্ধিতা
- দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা
- শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা
- বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা
- মানসিক বা সাইকোসোশিয়াল প্রতিবন্ধিতা
- অটিজম ও বিকাশজনিত অবস্থা
Who is most affected
- প্রতিবন্ধী শিশু
- বয়স্ক ব্যক্তি
- দারিদ্র্যপীড়িত মানুষ
- প্রতিবন্ধী নারী ও কন্যাশিশু
- গ্রামাঞ্চল বা সেবা-বঞ্চিত এলাকার মানুষ
What you can do
- সম্মানজনক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাষা ব্যবহার
- ভবন ও পরিবহনকে প্রবেশযোগ্য করার পক্ষে অবস্থান
- অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও নিয়োগকে সমর্থন
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের কথা মন দিয়ে শোনা
- কলঙ্ক ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া
বাংলাদেশে
বাংলাদেশে ২০১৩ সালের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন প্রতিবন্ধী অধিকার রক্ষার মূল আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করছে এবং জনঅবকাঠামোকে প্রবেশযোগ্য করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলছে। প্রতি বছর ৩ ডিসেম্বর দেশজুড়ে র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা ও অবদানকে তুলে ধরা হয়। তবুও অনেক সরকারি ভবন, পরিবহন ব্যবস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান – বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে – এখনও পর্যাপ্তভাবে প্রবেশযোগ্য নয়। সরকারি সংস্থা ও অধিকারকর্মীরা এ দিবসকে কাজে লাগিয়ে এসব ঘাটতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পূর্ণ অধিকার ও সম্ভাবনাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে দেখার জন্য সমাজকে উৎসাহিত করেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
- বিশ্বব্যাপী কতজন মানুষ প্রতিবন্ধিতা নিয়ে জীবনযাপন করেন?
- WHO অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ১৩০ কোটি মানুষ, অর্থাৎ প্রায় প্রতি ৬ জনে ১ জন উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধিতা নিয়ে জীবনযাপন করেন।
- বাংলাদেশে কি প্রতিবন্ধী অধিকার আইন আছে?
- হ্যাঁ, বাংলাদেশে ২০১৩ সালের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন রয়েছে, যা প্রবেশযোগ্যতা, শিক্ষা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষাসহ প্রতিবন্ধী অধিকারের মূল আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করে।

