মূল কন্টেন্টে যান

আমরা নিয়মিত তথ্য যোগ ও যাচাই করছি। কোনো তথ্য অনুপস্থিত বা ভুল মনে হলে আমাদের জানান, আমাদের টিম কাজ করছে। জানান

MedIndex
World Cancer Day awareness ribbon with people uniting against cancer

স্বাস্থ্য দিবসFebruary 4

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস

প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যান্সার দিবস পালিত হয় ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক কলঙ্ক কমানো এবং প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও প্রশামক সেবার গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য। ইউনিয়ন ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্যান্সার কন্ট্রোল (UICC) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), সরকার, পেশাজীবী সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সহায়তায় এই দিনটির বৈশ্বিক কার্যক্রম সমন্বয় করে। দিবসটি মনে করিয়ে দেয় যে অনেক ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধযোগ্য বা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে সফলভাবে চিকিৎসা করা যায় এবং আয়ের স্তর বা বাসস্থান নির্বিশেষে সবারই মানসম্মত ক্যান্সার সেবার অধিকার আছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এবং প্রায় সব অঞ্চলে আয়ু বৃদ্ধির পথে বড় বাধা। প্রতি বছর লাখো–কোটি মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে এই বোঝা দ্রুত বেড়ে চলেছে, যেখানে স্ক্রিনিং, প্যাথোলজি, রেডিওথেরাপি, সার্জারি, কেমোথেরাপি ও ব্যথা উপশম–সহ পূর্ণাঙ্গ সেবা পাওয়া কঠিন। অনেক রোগী দেরিতে আসেন, যখন রোগ জটিল হয়ে যায়, চিকিৎসা ব্যয়বহুল হয় এবং সাফল্যের সম্ভাবনা কমে যায়।

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি প্রতিরোধ ও সমতা—দুই বিষয়কে সামনে আনে। ক্যান্সারের উল্লেখযোগ্য অংশ ধূমপান, ক্ষতিকর মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর খাবার, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, পেশাগত ঝুঁকি এবং HPV ও হেপাটাইটিস বি–এর মতো সংক্রমণজনিত কারণের সাথে সম্পর্কিত। আবার স্তন, জরায়ুমুখ, মুখগহ্বর, কোলোরেক্টাল ও শিশু ক্যান্সারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত অনেক সময় উপেক্ষিত বা অজানা থেকে যায়। এই দিবসের মাধ্যমে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, টিকাদান, সংগঠিত স্ক্রিনিং, সময়মতো রেফারাল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রশামক সেবায় প্রবেশাধিকারের পক্ষে জনমত ও নীতি সহায়তা গড়ে তোলা হয়, যাতে ক্যান্সারজনিত অকাল মৃত্যুহার কমানো যায়।

ইতিহাস

বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের সূচনা ২০০০ সালে প্যারিসে আয়োজিত প্রথম ওয়ার্ল্ড সামিট এগেইনস্ট ক্যান্সার–এ। সেখানে গৃহীত চার্টার অব প্যারিস এগেইনস্ট ক্যান্সার নথিতে ক্যান্সার রোগীদের জন্য উন্নত সেবা, গবেষণায় বিনিয়োগ এবং সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়। এই চার্টারের অংশ হিসেবেই ৪ ফেব্রুয়ারিকে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস ঘোষণা করা হয়, যাতে ক্যান্সার সব সময় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য এজেন্ডায় গুরুত্ব পায় এবং সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অঙ্গীকার স্মরণ রাখে।

২০০৮ সাল থেকে UICC আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের বৈশ্বিক প্রচারণার নেতৃত্ব দেয় এবং বিশ্ব ক্যান্সার ঘোষণাপত্র ও পরবর্তীতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে নির্ধারিত অসংক্রামক রোগজনিত অকাল মৃত্যুহার কমানোর লক্ষ্যের সাথে দিবসটির বার্তাকে যুক্ত করে। “উই ক্যান, আই ক্যান” বা “ক্লোজ দ্য কেয়ার গ্যাপ”–এর মতো থিম ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক দায়িত্বের বার্তা দেয় এবং আয়, লিঙ্গ, জাতিগত পরিচয়, অক্ষমতা বা বাসস্থানের ভিত্তিতে সেবার বৈষম্য দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। সময়ের সাথে সাথে ৪ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে শতাধিক দেশে নীতি সংলাপ, গণমাধ্যম প্রচারণা, র‍্যালি, ক্যান্সারজয়ীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বিনামূল্যে স্ক্রিনিংসহ হাজারো কার্যক্রম আয়োজিত হয়।

মূল তথ্য

Common cancers

  • স্তন ক্যান্সার
  • ফুসফুস ক্যান্সার
  • কোলোরেক্টাল ক্যান্সার
  • প্রোস্টেট ক্যান্সার
  • জরায়ুমুখ ক্যান্সার
  • লিভার ক্যান্সার
  • পাকস্থলী ক্যান্সার
  • শিশু ক্যান্সার
  • রক্তের ক্যান্সার

Global burden

  • প্রতিবছর বিপুল নতুন কেস
  • বৈশ্বিক মৃত্যুর অন্যতম কারণ
  • নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে দ্রুত বাড়তে থাকা বোঝা
  • পরিবার ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বড় আর্থিক চাপ

Risk factors

  • তামাক ব্যবহার
  • অ্যালকোহল অপব্যবহার
  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
  • শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা
  • স্থূলতা
  • দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ
  • পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি

Prevention methods

  • তামাক এড়ানো
  • অ্যালকোহল সীমিত রাখা
  • স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া
  • নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা
  • HPV ও হেপাটাইটিস বি টিকা গ্রহণ
  • পরামর্শ অনুযায়ী স্ক্রিনিং করা

Who is affected

  • সব বয়সের মানুষ
  • বয়স্ক ব্যক্তি
  • নিম্ন আয়ের পরিবার
  • স্ক্রিনিং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী
  • দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী
  • যত্নদাতা ও সমাজ

বাংলাদেশে

বাংলাদেশে আয়ু বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সাথে ক্যান্সার একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। মুখগহ্বর, ফুসফুস, স্তন, জরায়ুমুখ ও কোলোরেক্টাল ক্যান্সার তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। অনেক রোগী প্রাথমিক লক্ষণ যেমন না সারানো মুখের ঘা, অকারণ রক্তপাত, অকারণ ওজন কমা বা স্তনে গাঁট–কে গুরুত্ব না দেওয়া, ভয় ও লজ্জা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং বিশেষায়িত সেন্টার থেকে দূরে থাকার কারণে দেরিতে চিকিৎসা নেন, ফলে রোগ জটিল হয় এবং পরিবারের উপর বড় আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি হয়।

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণে জোর দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থা এবং গণমাধ্যম একসাথে তামাক ও জর্দা–সুপরির ব্যবহার কমানো, স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও শারীরিক পরিশ্রমে উৎসাহ, সংক্রমণ–সম্পর্কিত ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং সতর্ক সংকেত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে। প্রচারণায় স্তন সচেতনতা ও ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট পরীক্ষা, জরায়ুমুখ ক্যান্সার স্ক্রিনিং, মুখগহ্বর পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত রেফারালের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NICRH), বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আঞ্চলিক কেন্দ্র, বেসরকারি ও এনজিও–নির্ভর প্রতিষ্ঠান ৪ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে সেমিনার, সচেতনতা কর্মসূচি, বিনামূল্যে পরামর্শ ও স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজন করে। একই সাথে প্যাথোলজি ও ইমেজিং সেবা, রেডিওথেরাপি ইউনিট, কেমোথেরাপি সুবিধা, হরমোন থেরাপি ও প্রশামক সেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসক, নার্স ও কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের বৈশ্বিক আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের স্থানীয় কর্মকাণ্ডকে যুক্ত করে দেশের ক্যান্সার বোঝা কমানো এবং ক্যান্সার রোগীদের জন্য সম্মানজনক, সাশ্রয়ী ও ধারাবাহিক সেবা নিশ্চিত করাই এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস কী এবং কবে পালিত হয়?
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি পালিত একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য দিবস, যার লক্ষ্য ক্যান্সার প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবারের সহায়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
বিশ্বব্যাপী কত মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়?
প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং ক্যান্সার বৈশ্বিক মৃত্যুর একটি বড় অংশের জন্য দায়ী, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে যেখানে সময়মতো মানসম্মত সেবা পাওয়া কঠিন।
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকি উপাদানগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা সেবায় বৈষম্য তুলে ধরে এবং সরকার ও সমাজকে ক্যান্সার সেবা ও রোগী সহায়তায় বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহিত করে।
ক্যান্সার কি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা করা যায়?
সব ক্যান্সার প্রতিরোধযোগ্য না হলেও অনেক ক্যান্সার তামাক, অ্যালকোহল, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য, সংক্রমণ ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার সাথে সম্পর্কিত এবং বেশ কিছু সাধারণ ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সার্জারি, ওষুধ ও রেডিওথেরাপির মাধ্যমে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় করা যায়।
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস অন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা দিবস থেকে কীভাবে আলাদা?
অন্যান্য অসংক্রামক রোগ বিষয়ক দিবসের তুলনায় বিশ্ব ক্যান্সার দিবস বিশেষভাবে ক্যান্সারের সম্পূর্ণ যাত্রাপথ—প্রতিরোধ ও স্ক্রিনিং থেকে শুরু করে নির্ণয়, চিকিৎসা, বেঁচে থাকা ও প্রশামক সেবা—এর ওপর জোর দেয় এবং দেশে ও দেশের ভেতরের সেবার বৈষম্য কমানোর বার্তা তুলে ধরে।
ক্যান্সার মোকাবিলায় বাংলাদেশ কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে?
বাংলাদেশে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে সেবা সম্প্রসারণ, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন, বিশ্ব ক্যান্সার দিবসকে ঘিরে সচেতনতামূলক ও স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজন এবং প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও প্রশামক সেবা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সম্পর্কিত স্বাস্থ্য দিবস

এই পাতা শেয়ার করুন