মূল কন্টেন্টে যান

আমরা নিয়মিত তথ্য যোগ ও যাচাই করছি। কোনো তথ্য অনুপস্থিত বা ভুল মনে হলে আমাদের জানান, আমাদের টিম কাজ করছে। জানান

MedIndex
World Food Safety Day illustration showing clean hands washing vegetables, a thermometer checking food temperature, and covered dishes to represent safe food handling

স্বাস্থ্য দিবসJune 7

বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস

প্রতি বছর ৭ জুন বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস পালিত হয়। এ দিবসের মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়া। খামার থেকে শুরু করে বাজার, রেস্টুরেন্ট, রাস্তার খাবার বিক্রেতা ও ঘরের রান্নাঘর—খাদ্য চেইনের প্রতিটি ধাপে যারা যুক্ত আছেন, তাদের জন্য এই দিবস একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

History

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১৮ সালে ৭ জুন তারিখটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) যৌথভাবে এ প্রস্তাব এগিয়ে নেয়। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদ্‌যাপিত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন থিম নিয়ে এ দিবস পালিত হচ্ছে—যেমন সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য, ভালো স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাবার, বা খাদ্য নিরাপত্তা সবার যৌথ দায়িত্ব ইত্যাদি।

নিরাপদ খাদ্যকে একটি মৌলিক অধিকার এবং উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অংশ হিসেবেই বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবসের সূচনা। দূষিত বা ভেজাল খাবারের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী বা রাসায়নিক পদার্থ দেহে প্রবেশ করে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস, কিডনি ও লিভারের ক্ষতি থেকে শুরু করে কিছু ধরনের ক্যান্সার পর্যন্ত ২০০-রও বেশি রোগের কারণ হতে পারে। একটি নির্দিষ্ট দিবস ঘোষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে খাদ্য নিরাপত্তা আইন, মান নিয়ন্ত্রণ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে উৎসাহিত করা হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বব্যাপী ধারণা করা হয় যে প্রতি বছর প্রায় প্রতি ১০ জনে ১ জন দূষিত খাবার খেয়ে অসুস্থ হন। বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর এর প্রভাব বেশি; ডায়রিয়া ও অপুষ্টির কারণে তাদের মধ্যে অপাংক্তেয়তা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। খাদ্যবাহিত রোগ শুধু শারীরিক কষ্টই বাড়ায় না, স্কুল ও কাজে অনুপস্থিতি, চিকিৎসা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা কমার মাধ্যমে পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে।

খাবার বিভিন্ন পর্যায়ে অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে—যেমন দূষিত পানি দিয়ে ফসলের সেচ, কীটনাশক বা রাসায়নিকের অপব্যবহার, কাঁচা বা অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা খাবার, অনেকক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া রান্না করা খাবার, নোংরা হাত বা বাসন-কোসা দিয়ে খাবার পরিবেশন ইত্যাদি। বিশেষ করে ভাত, মাংস, মাছ, দুধ, ডিম, স্ন্যাক্স ও রাস্তার খাবারের মতো উষ্ণ ও আর্দ্র খাবারে জীবাণু দ্রুত বাড়ে।

বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস মনে করিয়ে দেয় যে নিরাপদ খাদ্য সবার যৌথ দায়িত্ব। সরকারকে উপযুক্ত আইন ও মানদণ্ড নির্ধারণ, পরিদর্শন ও পরীক্ষাগার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সক্রিয় হতে হয়। খাদ্য শিল্প ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে ভালো উৎপাদন প্রক্রিয়া অনুসরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ঠাণ্ডা সংরক্ষণ চেইন বা কোল্ড চেইন ঠিক রাখতে হয়। হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও রাস্তার খাবার বিক্রেতাদের পরিষ্কার হাত, পরিষ্কার পানি, নিরাপদ কাঁচামাল ও সঠিক রান্না ও সংরক্ষণ পদ্ধতি মানতে হয়। ঘরে পরিবারগুলো হাত ধোয়া, খাবার ভালোভাবে রান্না করা, কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা, নিরাপদ পানি ব্যবহার এবং খাবার ঢেকে ও সঠিক তাপমাত্রায় রাখা—এসব অভ্যাস গড়ে তুললে অনেক রোগ এড়ানো যায়।

মূল তথ্য

নেতৃত্ব

  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) যৌথভাবে এ দিবসের সমন্বয় করে।

শুরু

  • ২০১৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তের পর ২০১৯ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস পালিত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী বোঝা

  • ধারণা করা হয় প্রতি বছর বিশ্বে প্রতি ১০ জনে ১ জন দূষিত বা অনিরাপদ খাবার খেয়ে অসুস্থ হন।

কোন কোন রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত

  • তীব্র ডায়রিয়া
  • কলেরা
  • টাইফয়েড
  • হেপাটাইটিস এ ও ই
  • পরজীবী সংক্রমণ
  • কিডনি ও লিভারের ক্ষতি
  • এবং দীর্ঘমেয়াদি রাসায়নিক দূষণের মাধ্যমে কিছু ধরনের ক্যান্সার।

প্রতিরোধের উপায়

  • হাত ভালোভাবে ধোয়া
  • রান্নাঘর ও বাসন পরিষ্কার রাখা
  • খাবার ভালোভাবে রান্না করা
  • নিরাপদ পানি ও কাঁচামাল ব্যবহার করা এবং সঠিক তাপমাত্রায় খাবার সংরক্ষণ—এসব সহজ নিয়ম মানলেই অনেক খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশে

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, কারণ এখানে ডায়রিয়া ও অন্যান্য খাদ্যবাহিত রোগ এখনো সাধারণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। অনেক মানুষ প্রতিদিনই রাস্তার খাবার বা ছোট হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করেন, যেখানে ভিড়, বিশুদ্ধ পানির অপ্রতুলতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে সবসময় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে সঠিকভাবে ঠাণ্ডা বা ঢেকে না রাখলে।

খাদ্যে ভেজাল, কৃত্রিম রং, নকল ঘি-তেল, বিষাক্ত রাসায়নিক বা অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহার এবং মাছ-ফল সংরক্ষণে ফরমালিন ব্যবহারের আশঙ্কা নিয়েও দেশে বহু আলোচনা ও গবেষণা হয়েছে। দুধ, ভোজ্যতেল, মসলা, মিষ্টি ও প্যাকেটজাত স্ন্যাক্সে ভেজাল বা মানহীনতার ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে, যা তাত্ক্ষণিক অসুস্থতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার ও হরমোনজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার খাদ্য নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ (BFSA) গঠন করেছে। BFSA ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার চেষ্টা করছে। বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে সেমিনার, আলোচনা সভা, স্কুল প্রোগ্রাম, গণমাধ্যম প্রচারণা ও স্ট্রিট ফুড হাইজিন ক্যাম্পেইন আয়োজন করা হয়।

পরিবারের জন্য এ দিবসটি একটি বাস্তব বার্তা দেয়—রান্না বা খাবার পরিবেশনের আগে ও খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া, সবজি ও ফল পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নেওয়া, কাঁচা মাছ-মাংসকে রান্না করা খাবার থেকে আলাদা রাখা, মাছ-মাংস ও ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ বা ভাজা করা, বরফ ও পানীয়ের ক্ষেত্রে নিরাপদ পানির ব্যাপারে সতর্ক থাকা, এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার না খাওয়া। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী মা ও বয়স্কদের জন্য এসব নিয়ম আরও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস একই সঙ্গে পুষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গেও সম্পর্কিত। নিরাপদ খাবার মানে কম অসুস্থতা, কম চিকিৎসা ব্যয় ও বেশি কর্মক্ষমতা; শিশুদের বেড়ে ওঠা ভালো হয় এবং স্কুলে উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় বাজার ও রপ্তানি পণ্যের প্রতি ভোক্তার আস্থা বাড়াতে খাদ্য নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তাই খামার থেকে শুরু করে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবসের নেতৃত্বে কারা রয়েছে?
বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) যৌথভাবে পরিচালনা করে, আর বিভিন্ন দেশ, খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ও সিভিল সোসাইটি সংগঠন এ প্রচেষ্টায় অংশ নেয়।
প্রতি বছর কতজন মানুষ অনিরাপদ খাবারের কারণে অসুস্থ হন?
ধারণা করা হয়, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় প্রতি ১০ জনে ১ জন দূষিত বা অনিরাপদ খাবার খেয়ে অসুস্থ হন, যার মধ্যে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি।

সম্পর্কিত স্বাস্থ্য দিবস

এই পাতা শেয়ার করুন