প্রতি বছর ১২ ডিসেম্বর সার্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ (UHC) দিবস পালিত হয়, যা ২০১২ সালে গৃহীত প্রথম সর্বসম্মত জাতিসংঘ প্রস্তাবের বার্ষিকী—এই প্রস্তাবে সব দেশকে সবার জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এরপর থেকে এ দিনটি সরকার, সিভিল সোসাইটি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ন্যায্য ও শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থার দাবি জানানোর একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বজুড়ে এখনো বহু মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাও পায় না, আবার অনেক পরিবার চিকিৎসার পকেট খরচের কারণে প্রতি বছর দারিদ্র্যের দিকে ধাক্কা খায়। যখন ডাক্তার দেখানো, ওষুধ কেনা, পরীক্ষা বা হাসপাতালের খরচ বহন করা কঠিন হয়, তখন মানুষ চিকিৎসা ফেলে রাখে বা ঋণের মধ্যে ডুবে যায়। UHC দিবস মনে করিয়ে দেয় যে স্বাস্থ্য সেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক মানবাধিকার; এবং শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সুরক্ষা ও ন্যায্য অর্থায়ন ব্যবস্থা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
History
সার্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজের ধারণা বহুদিন ধরে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য আলোচনায় ছিল, তবে ২০১২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক প্রস্তাবের মাধ্যমে এটি নতুন গতি পায়। পরবর্তীতে ১২ ডিসেম্বরকে সার্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও UHC2030 পার্টনারশিপ এ দিবসকে সামনে রেখে বৈশ্বিক প্রচার চালায়। ২০১৫ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) গ্রহণের সময় UHC-কে ৩.৮ নম্বর লক্ষ্যমাত্রায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেখানে আর্থিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ ও ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। প্রতিবছর UHC দিবসের ক্যাম্পেইন সমতা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা এবং জবাবদিহিতা ইত্যাদি থিমের ওপর গুরুত্ব দেয়।
Key facts
মূল সংজ্ঞা
- UHC মানে হলো সকল মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাবে
- এবং এর খরচ মেটাতে গিয়ে তারা আর্থিক কষ্টে পড়বে না।
যে সেবাগুলো এর অন্তর্ভুক্ত
- স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সচেতনতা
- রোগ প্রতিরোধ
- চিকিৎসা
- পুনর্বাসন এবং জীবন-সমাপ্তি পর্যায়ের প্যালিয়েটিভ কেয়ার।
প্রধান বাধা
- পকেট থেকে বেশি খরচ
- স্বাস্থ্য বীমা বা সামাজিক সুরক্ষা না থাকা
- ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘাটতি
- শহর-গ্রামের বৈষম্য।
কারা বেশি ভুক্তভোগী
- নিম্ন আয়ের পরিবার
- গ্রাম বা দুর্গম অঞ্চলের মানুষ
- অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিক
- এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ও বঞ্চিত গোষ্ঠী।
বাংলাদেশে
বাংলাদেশে ব্যক্তিগত পকেট থেকে স্বাস্থ্য ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি, ফলে অনেক পরিবারকে ওষুধ, পরীক্ষা ও হাসপাতালে ভর্তির খরচ নিজেরাই বহন করতে হয়। UHC বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হতে সরকার সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করেছে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নত করছে এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি যেমন "স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (Shasthyo Shurokkha Karmasuchi - SSK)" পাইলট করছে। সার্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ দিবসে নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন অংশীদার ও সিভিল সোসাইটি উচ্চ পকেট খরচ কমানো, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক ও ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীকে সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। এসব প্রচেষ্টার লক্ষ্য হলো এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে বাংলাদেশে কেউই চিকিৎসা নিলে আর্থিক বিপর্যয়ের ভয়ে পিছিয়ে থাকবে না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
- সার্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ (UHC) মানে কী?
- সার্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ বা UHC মানে হলো, প্রত্যেক মানুষ প্রতিরোধ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও প্যালিয়েটিভ কেয়ারসহ প্রয়োজনীয় মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং এ খরচ মেটাতে গিয়ে তাকে আর্থিক কষ্টে পড়তে হবে না।
- বাংলাদেশ কি UHC-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে?
- হ্যাঁ। বাংলাদেশ সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক নেটওয়ার্ক বাড়াচ্ছে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করছে এবং "স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (Shasthyo Shurokkha Karmasuchi - SSK)"সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা স্কিম পাইলট করছে, যাতে বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের পকেট থেকে স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো যায়।

