মূল কন্টেন্টে যান

আমরা নিয়মিত তথ্য যোগ ও যাচাই করছি। কোনো তথ্য অনুপস্থিত বা ভুল মনে হলে আমাদের জানান, আমাদের টিম কাজ করছে। জানান

MedIndex
World Leprosy Day awareness illustration showing a health worker examining a person’s skin patch and a community standing together against stigma

স্বাস্থ্য দিবসLast Sunday of January

বিশ্ব কুষ্ঠ রোগ দিবস

বিশ্ব কুষ্ঠ রোগ দিবস প্রতি বছর জানুয়ারির শেষ রবিবার পালিত হয়, যাতে কুষ্ঠ রোগ (Hansen’s disease) সম্পর্কে সঠিক ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং এ রোগে আক্রান্ত মানুষের প্রতি সংহতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা যায়। এ তারিখটি মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকীর কাছাকাছি হওয়ায় বেছে নেওয়া হয়েছে, কারণ তিনি কুষ্ঠ রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করেছিলেন এবং এ রোগকে ঘিরে থাকা কুসংস্কার ও কলঙ্কের বিরোধিতা করেছিলেন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

কুষ্ঠ একটি দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণজনিত রোগ, যা Mycobacterium leprae নামের জীবাণু দ্বারা হয় এবং মূলত ত্বক ও স্নায়ুকে আক্রান্ত করে। চিকিৎসা না নিলে হাতে-পায়ে অসাড়তা, দুর্বলতা, আঙুল বা পায়ের আঙুল বিকৃত হওয়া, এমনকি অন্ধত্বও হতে পারে। কিন্তু বর্তমান মাল্টি-ড্রাগ থেরাপি (MDT) ব্যবস্থার মাধ্যমে কুষ্ঠ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য, এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অক্ষমতা প্রতিরোধ করা যায়। তবু ভয়, ভুল ধারণা ও সামাজিক কলঙ্কের কারণে অনেকে দেরি করে চিকিৎসা নেন। বিশ্ব কুষ্ঠ রোগ দিবস মনে করিয়ে দেয় যে কুষ্ঠ কোনো অভিশাপ বা পাপের ফল নয়, এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ; এবং কুষ্ঠে আক্রান্ত বা সুস্থ হওয়া প্রত্যেক মানুষেরই সমান অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা রয়েছে।

History

ফরাসি মানবতাবাদী রাউল ফোলেরো ১৯৫০-এর দশকে বিশ্ব কুষ্ঠ রোগ দিবসের সূচনা করেন, যাতে কুষ্ঠ রোগীদের দুরবস্থা সবার সামনে আসে এবং তাদের চিকিৎসা ও সহায়তায় বৈশ্বিক সমর্থন জোগাড় করা যায়। সময়ের সাথে সাথে এ দিবসের গুরুত্ব শুধুই দান-সহায়তার বদলে মানবাধিকার, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক সেবার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা এ দিবসকে সামনে রেখে বিনামূল্যের MDT, সক্রিয় রোগী অনুসন্ধান এবং কলঙ্ক কমানোর কর্মসূচি চালায়। বহু দেশ WHO নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী "জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে কুষ্ঠ নির্মূল" অর্জন করলেও (প্রতি ১০,০০০ জনে ১ জনের কম রোগী), প্রতিবছর নতুন রোগী পাওয়া যায়, শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যায়, যা চলমান সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।

Key facts

কারণ

  • ধীরে বেড়ে ওঠা জীবাণু Mycobacterium leprae
  • যা সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়; অনেক অন্যান্য সংক্রমণের মতো এটি অতটা দ্রুত ছড়ায় না।

উপসর্গ

  • ত্বকে সাদা বা লালচে দাগ
  • যেখানে স্পর্শ বা ব্যথার অনুভূতি কমে যায়; হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অসাড়তা; পেশী দুর্বলতা; কখনো স্নায়ু মোটা হয়ে যাওয়া।

চিকিৎসা

  • সাধারণত ৬–১২ মাসের মাল্টি-ড্রাগ থেরাপি (MDT)
  • যা অধিকাংশ দেশে এবং বাংলাদেশেও বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধ

  • দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ
  • নিয়মিত হাত-পা পর্যবেক্ষণ ও যত্ন
  • সুরক্ষামূলক জুতা ব্যবহার এবং স্নায়ুতে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিলে অনেক বিকলাঙ্গতা এড়ানো যায়।

কলঙ্কের সমস্যা

  • কুষ্ঠ অত্যন্ত সংক্রামক বা শুধুই বংশগত—এ ধরনের ভুল ধারণা আক্রান্ত মানুষকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে
  • যা প্রায়শই রোগের চেয়েও বেশি কষ্ট দেয়।

বাংলাদেশে

বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে কুষ্ঠ রোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, কিন্তু এখনো প্রতি বছর নতুন রোগী শনাক্ত হয়, বিশেষ করে কিছু গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায়। সরকারি হাসপাতাল, বিশেষায়িত কুষ্ঠ হাসপাতাল এবং বিভিন্ন এনজিও পরিচালিত ক্লিনিকের মাধ্যমে বিনামূল্যে MDT সরবরাহ করা হয়। কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা সন্দেহজনক ত্বকের দাগ দেখে রোগী শনাক্ত ও রেফার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশ্ব কুষ্ঠ রোগ দিবসে প্রচারাভিযান, কমিউনিটি সভা ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হয় যে কুষ্ঠ রোগ নিরাময়যোগ্য, চিকিৎসা বিনামূল্যে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে অক্ষমতা প্রতিরোধ করা যায়। এ দিনটি কুষ্ঠ আক্রান্তদের প্রতি ভয় ও ঘৃণা দূর করতে, পরিবারের ও সমাজের সমর্থন বাড়াতে এবং যারা কুষ্ঠ থেকে সুস্থ হয়েছেন তাদের শিক্ষা, চাকরি, বিবাহ বা সামাজিক জীবনে যেন কোনো বৈষম্যের শিকার না হতে হয়, সে বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

কুষ্ঠ রোগ কি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য?
হ্যাঁ। কুষ্ঠ রোগ মাল্টি-ড্রাগ থেরাপি (MDT) নামের অ্যান্টিবায়োটিকের সমন্বিত চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য, যা অধিকাংশ দেশেই বিনামূল্যে দেওয়া হয়। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে স্নায়ু ক্ষতি ও অক্ষমতা অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়।
কুষ্ঠের প্রাথমিক লক্ষণ কী কী?
ত্বকে সাদা বা লালচে দাগ, যেখানে স্পর্শ বা ব্যথার অনুভূতি কমে যায়, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অসাড়তা – এগুলো কুষ্ঠের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখলে দ্রুত ডাক্তার বা ত্বক বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত।
কুষ্ঠ কি খুব বেশি ছোঁয়াচে রোগ?
না। কুষ্ঠ মূলত দীর্ঘ সময় ধরে কোনো চিকিৎসা না নেওয়া রোগীর খুব ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে ছড়াতে পারে, এবং এটি অনেক সংক্রামক রোগের তুলনায় কম সংক্রামক। উপরন্তু, MDT চিকিৎসা শুরু হলে কয়েক দিনের মধ্যেই রোগী সাধারণত আর সংক্রামক থাকে না।

সম্পর্কিত স্বাস্থ্য দিবস

এই পাতা শেয়ার করুন