বিশ্ব অবহেলিত ক্রান্তীয় রোগ (NTD) দিবস প্রতি বছর ৩০ জানুয়ারি পালিত হয় যাতে ২০টি প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায় যা ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের ১০০ কোটিরও বেশি দরিদ্র মানুষকে প্রভাবিত করে। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত, এই দিনটি ২০১২ সালের ঐতিহাসিক লন্ডন ঘোষণার বার্ষিকী স্মরণ করে যা বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করে এমন রোগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি সংগঠিত করেছিল। এই রোগগুলি সেখানে বিকশিত হয় যেখানে দারিদ্র্য, দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবা একসাথে রয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
অবহেলিত ক্রান্তীয় রোগসমূহ গুরুতর প্রতিবন্ধকতা, বিকৃতি, অন্ধত্ব এবং গভীর সামাজিক কলঙ্কের কারণ হয়, তবুও তারা ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা বা HIV/AIDS-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম অর্থায়ন এবং গবেষণা মনোযোগ পায়। বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ কমপক্ষে একটি NTD-তে ভুগছে, এবং প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ মৃত্যু এই রোগের সাথে সম্পর্কিত। অর্থনৈতিক বোঝা অসাধারণ: প্রভাবিত সম্প্রদায়গুলি অসুস্থতা, বিকৃতি এবং প্রাথমিক মৃত্যুতে উৎপাদনশীল বছর হারায়। ব্যাপক ওষুধ বিতরণ, উন্নত জল পয়ঃনিষ্কাশন, বাহক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাথমিক রোগ সনাক্তকরণ প্রমাণিত হস্তক্ষেপ যা স্কেলে বাস্তবায়িত হলে খরচ-কার্যকরভাবে সংক্রমণ নির্মূল করে।
ইতিহাস
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০০০-এর দশকের শুরুতে অবহেলিত ক্রান্তীয় রোগকে জনস্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং ২০০৭ সালে একটি নিবেদিত NTD প্রোগ্রাম প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০১২ সালের লন্ডন ঘোষণা একটি মাইলফলক মুহূর্ত ছিল যখন ১৩টি ফার্মাসিউটিকাল সংস্থা NTD-এর জন্য অপরিহার্য ওষুধের বিনামূল্যে বা ছাড়যুক্ত দান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০১৯ সালে, WHO একাধিক NTD জুড়ে সাহসী নির্মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রথম বিশ্ব NTD দিবস ৩০ জানুয়ারি ২০২০-এ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছিল, লন্ডন ঘোষণার বার্ষিকীকে সম্মান করার জন্য নির্বাচিত। ২০২০ সাল থেকে, বার্ষিক অনুষ্ঠান একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ থেকে বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত দিনে পরিণত হয়েছে যেখানে ১৪৫+ দেশ, প্রধান এনজিও এবং জাতিসংঘ অংশগ্রহণ করে।
মূল তথ্য
অন্তর্ভুক্ত রোগসমূহ
- লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস
- অনকোসার্সিয়াসিস
- লোয়াসিস
- ডেঙ্গু জ্বর
- চিকুনগুনিয়া
- জিকা ভাইরাস
- লেইশম্যানিয়াসিস
- কালাজ্বর
- চ্যাগাস রোগ
- ঘুম রোগ
- কুষ্ঠ
- জলাতঙ্ক
- ইকাইনোকোসিস
- সিস্টিসার্কোসিস
বৈশ্বিক বোঝা
- ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ প্রভাবিত
- বার্ষিক ২ লক্ষ মৃত্যু
- প্রধানত সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ায়
ঝুঁকির কারণ
- দারিদ্র্য
- অপর্যাপ্ত জল এবং পয়ঃনিষ্কাশন
- অপুষ্টি
- দুর্বল আবাসন
- ক্রান্তীয় জলবায়ু
- সীমিত নির্ণয় এবং চিকিৎসা অ্যাক্সেস
প্রতিরোধ পদ্ধতি
- ব্যাপক ওষুধ বিতরণ
- উন্নত পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন
- মশা ও বাহক নিয়ন্ত্রণ
- স্বাস্থ্য শিক্ষা
- প্রাথমিক রোগ সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা
প্রভাবিত জনগোষ্ঠী
- ক্রান্তীয় অঞ্চলের নিম্ন-আয়ের জনসংখ্যা
- ৫ বছরের নিচে শিশু
- গর্ভবতী মহিলা
- কৃষি কর্মী
- বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি ও শরণার্থী
বাংলাদেশে
বাংলাদেশ তার NTD নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা সরকার দ্বারা অর্থায়িত এবং WHO, GAVI এবং বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন সহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের দ্বারা সমর্থিত। দেশটি টেকসই ব্যাপক ওষুধ বিতরণ প্রচারাভিযানের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস (গোদ রোগ) সফলভাবে নির্মূল করেছে যা বার্ষিক লক্ষ লক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের জাতীয় NTD নির্মূল কর্মসূচি লক্ষ্যযুক্ত নজরদারি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে কালাজ্বর (অন্ত্রীণ লেইশম্যানিয়াসিস) এর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রাথমিক রোগ-খোঁজা এবং বহু-ওষুধ থেরাপির সাথে সক্রিয় থাকে। বাংলাদেশ ডেঙ্গু নজরদারি এবং প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা অব্যাহত রাখে, বিশেষ করে শহুরে এলাকায় রোগের ক্রমবর্ধমান ঘটনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
- বিশ্ব NTD দিবস কি এবং কবে পালিত হয়?
- বিশ্ব অবহেলিত ক্রান্তীয় রোগ দিবস প্রতি বছর ৩০ জানুয়ারি পালিত হয় যাতে নিম্ন-আয়ের দেশে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করে এমন ২০টি প্রতিরোধযোগ্য ক্রান্তীয় রোগ সম্পর্কে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়। তারিখটি ২০১২ সালের লন্ডন ঘোষণা স্মরণ করে।
- কোন ২০টি রোগ অবহেলিত ক্রান্তীয় রোগ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ?
- WHO ২০টি NTD স্বীকৃতি দেয়: লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস, অনকোসার্সিয়াসিস, লোয়াসিস, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা, লেইশম্যানিয়াসিস, কালাজ্বর, চ্যাগাস, ঘুম রোগ, কুষ্ঠ, জলাতঙ্ক, ইকাইনোকোসিস, সিস্টিসার্কোসিস এবং আরও কিছু।
- বিশ্বব্যাপী কতজন মানুষ অবহেলিত ক্রান্তীয় রোগ দ্বারা প্রভাবিত হয়?
- ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ কমপক্ষে একটি NTD-তে ভুগছে, প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ মৃত্যু হয়। এই রোগগুলি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের দরিদ্র জনসংখ্যাকে অসমভাবে প্রভাবিত করে।
- অবহেলিত ক্রান্তীয় রোগের প্রধান কারণ ও ঝুঁকির কারণ কি?
- NTD দারিদ্র্য, অপর্যাপ্ত জল পয়ঃনিষ্কাশন, অপুষ্টি, দুর্বল আবাসন এবং ক্রান্তীয় জলবায়ুতে বিকশিত হয়। নিম্ন-আয়ের দেশে সীমিত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সুবিধা রোগ সংক্রমণ স্থায়ী করে।
- অবহেলিত ক্রান্তীয় রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা করা যায় কি?
- হ্যাঁ, সব ২০টি NTD প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসাযোগ্য। ব্যাপক ওষুধ বিতরণ, উন্নত জল পয়ঃনিষ্কাশন, বাহক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রমাণিত হস্তক্ষেপ।
- বাংলাদেশ NTD-এর বিরুদ্ধে কী অগ্রগতি করেছে?
- বাংলাদেশ টেকসই জাতীয় কর্মসূচির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস নির্মূল করেছে এবং কালাজ্বর কেসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে।

