প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়, যা এইচআইভি/এইডস মহামারী সম্পর্কে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি, এইচআইভি নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষদের সমর্থন এবং এইডস-সম্পর্কিত অসুস্থতায় মৃত্যুবরণকারীদের স্মরণ করার একটি ঐক্যবদ্ধ দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৮৮ সালে প্রথম পালিত হওয়া এ দিবসটি বিশ্বের প্রথম দিককার আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সচেতনতা দিবসগুলোর একটি এবং প্রতি বছর নির্দিষ্ট থিমের মাধ্যমে কমিউনিটি, স্বাস্থ্যকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের একত্র করে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
এইচআইভি এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সমস্যা; অনুমান করা হয়, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বেঁচে আছেন। কার্যকর অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART) থাকায় এখন অনেকেই দীর্ঘ ও তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, তবুও অনেকে নিজের এইচআইভি অবস্থা জানেন না বা চিকিৎসা পান না। সামাজিক কলঙ্ক ও ভয় অনেককে পরীক্ষা এবং সেবা গ্রহণ থেকে বিরত রাখে, ফলে দেরিতে রোগ ধরা পড়ে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ে। বিশ্ব এইডস দিবস বিনামূল্যে ও গোপনীয় পরীক্ষা, আজীবন চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক সেবা এবং এইচআইভি আক্রান্তদের প্রতি বৈষম্যহীন আচরণের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে।
History
বিশ্ব এইডস দিবস ১৯৮৮ সালে প্রথম পালিত হয়, যখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এইচআইভি/এইডস মহামারী এবং এর সামাজিক প্রভাবের দিকে বিশ্বের মনোযোগ পড়তে শুরু করে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোর যৌথ প্রচেষ্টায় দিনটি ধীরে ধীরে এইচআইভি মোকাবিলার বৈশ্বিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। সময়ের সাথে সাথে এ দিবসের থিম মানবাধিকার, সবার জন্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ এবং জনস্বাস্থ্য হুমকি হিসেবে এইডসের অবসান – এসব বিষয়ে জোর দিতে শুরু করে। ভয়ের বার্তার বদলে আশাবাদ, সংহতি এবং কলঙ্ক কমিয়ে পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধকে এগিয়ে নেওয়ার শক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
Key facts
Common conditions
- এইচআইভি সংক্রমণ
- অগ্রসর এইডসজনিত অসুস্থতা
- এইচআইভি-সম্পর্কিত সংক্রমণ
- যৌনবাহিত সংক্রমণ
- মা-থেকে-শিশুতে এইচআইভি সংক্রমণ
- রক্তের মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণ
Who is most affected
- এইচআইভি নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষ
- উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ মূল জনগোষ্ঠী
- এইচআইভি আক্রান্তদের যৌন সঙ্গী
- কিশোর-কিশোরী ও তরুণরা
- এইচআইভি আক্রান্ত গর্ভবতী নারী
What you can do
- এইচআইভি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা
- ঝুঁকি থাকলে পরীক্ষা করানো
- পজিটিভ হলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা
- এইচআইভি আক্রান্তদের সমর্থন করা
- কলঙ্ক ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলা
বাংলাদেশে
বাংলাদেশে এইচআইভির প্রকোপ তুলনামূলকভাবে কম হলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং তা মূলত নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত, তাই লক্ষ্যভিত্তিক প্রতিরোধ ও দ্রুত রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি হাসপাতাল এবং আইসিডিডিআর,বি ও আশার আলো সোসাইটির মতো এনজিওর মাধ্যমে বিনামূল্যে ও গোপনীয় এইচআইভি পরীক্ষা এবং কাউন্সেলিং সেবা চালু রয়েছে, যা সাধারণ মানুষ এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী উভয়ের কাছেই পৌঁছানোর চেষ্টা করে। বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও অংশীদার সংস্থাগুলো প্রচারণা, আউটরিচ কর্মসূচি ও গণমাধ্যম বার্তার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় পরীক্ষা করাতে উৎসাহ দেয়, পজিটিভ হওয়া ব্যক্তিদের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির সঙ্গে যুক্ত করে এবং কলঙ্কের কারণে যাতে কেউ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়। এসব কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো প্রয়োজনীয় সকল মানুষের জন্য এইচআইভি পরীক্ষা, কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা নির্ভয়ে ও বৈষম্যহীনভাবে নিশ্চিত করা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
- এইচআইভি কি নিরাময়যোগ্য?
- এইচআইভি এখনও নিরাময়যোগ্য নয়, তবে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART) ভাইরাসকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, ফলে এইচআইভি নিয়ে বেঁচে থাকা অনেক মানুষ দীর্ঘ ও তুলনামূলকভাবে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।
- বাংলাদেশে কি বিনামূল্যে এইচআইভি পরীক্ষা করা যায়?
- হ্যাঁ, সরকারি হাসপাতাল এবং আইসিডিডিআর,বি সহ বিভিন্ন এনজিও পরিচালিত কেন্দ্রে বিনামূল্যে ও গোপনীয় এইচআইভি পরীক্ষা ও কাউন্সেলিং সেবা পাওয়া যায়।

