প্রতি বছর ১৮–২৪ নভেম্বর বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ পালিত হয়, যার উদ্দেশ্য হলো অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধের বাড়তে থাকা হুমকি তুলে ধরা এবং মানুষ, প্রাণী ও কৃষিক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের সঠিক ও সীমিত ব্যবহার নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও কৃষি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এ সপ্তাহে সরকার, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষকে এক যৌথ বৈশ্বিক প্রচারণায় যুক্ত করা হয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধের কারণে আগে সহজে চিকিৎসাযোগ্য অনেক সংক্রমণ আর সহজে সাড়া দেয় না, ফলে রোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়, হাসপাতালে থাকার সময় বাড়ে এবং মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু ও জটিলতা ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণের সাথে সম্পর্কিত বলে ধরা হয়; সঠিক ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ অস্ত্রোপচার, ক্যান্সারের চিকিৎসা বা আইসিইউ সেবাও অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই সপ্তাহ মনে করিয়ে দেয় যে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সময়ে এবং সঠিক নিয়মে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলেই ভবিষ্যতের রোগীদের জন্য এ ওষুধগুলোর কার্যকারিতা রক্ষা করা সম্ভব।
History
বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর পালিত হচ্ছে, যার সমন্বয় করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং অংশীদার সংস্থা হিসেবে রয়েছে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং বিশ্ব প্রাণি স্বাস্থ্্য সংস্থা (WOAH)। এর সূচনা হয় প্রাথমিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা কার্যক্রম থেকে, পরে এটি মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ – এই তিন ক্ষেত্রকে একীভূত করে "ওয়ান হেলথ" ধারণায় বিস্তৃত প্রচারণায় রূপ নেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ সপ্তাহের বার্তা কেবল সচেতনতা থেকে সরে এসে প্রেসক্রিপশন-নির্ভর অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি, স্টিওয়ার্ডশিপ প্রোগ্রাম এবং শক্তিশালী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়নের মতো বাস্তব পদক্ষেপের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
Key facts
Common conditions
- অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণ
- হাসপাতালজনিত সংক্রমণ
- ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট টিবি
- প্রতিরোধী মূত্রনালি সংক্রমণ
- প্রতিরোধী শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ
- প্রতিরোধী ক্ষত সংক্রমণ
Who is most affected
- হাসপাতালে ভর্তি রোগী
- দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি
- বয়স্ক মানুষ
- ছোট শিশু
- যেসব দেশে সহজে অ্যান্টিবায়োটিক কেনা যায়
What you can do
- নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়া
- প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না কেনা
- চিকিৎসকের দেওয়া পূর্ণ কোর্স সম্পন্ন করা
- সংক্রমণ প্রতিরোধের নিয়ম মেনে চলা
- সংক্রমণ রোধে টিকা গ্রহণ
বাংলাদেশে
বাংলাদেশে অনেক ফার্মেসিতে এখনও চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা হয়, যা কমিউনিটিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এ সপ্তাহে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো যৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পক্ষে প্রচারণা চালায়, ফার্মাসিস্টদের বৈধ প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ দেওয়ার আহ্বান জানায় এবং হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেয়। জনসচেতনতা বার্তায় বলা হয়, রোগীরা যেন ডাক্তার বা ওষুধ বিক্রেতার ওপর অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার চাপ না করে এবং হাত ধোয়া, টিকা গ্রহণ, নিরাপদ খাদ্য ও পানি ব্যবহারের মতো সহজ পদক্ষেপের মাধ্যমে যাতে প্রয়োজনই না পড়ে অ্যান্টিবায়োটিকের।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
- অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ কী?
- যখন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক বা পরজীবী তাদের মেরে ফেলার জন্য তৈরি ওষুধের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, তখন ওই সংক্রমণ চিকিৎসা করা কঠিন বা কখনও কখনও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
- বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ কেন উদ্বেগের বিষয়?
- চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ব্যাপকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও ব্যবহার সারাদেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

