প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস পালন করা হয়, যাতে Plasmodium পরজীবীজনিত এবং স্ত্রী Anopheles মশার মাধ্যমে ছড়ানো ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে সামনে আনা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও অংশীদার সংস্থাগুলো এ দিবসকে একটি নির্দিষ্ট বার্ষিক সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে অগ্রগতি পর্যালোচনা, চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত এবং ম্যালেরিয়াকে জনস্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার হিসেবে ধরে রাখার জন্য কাজ করে।
Why it matters
এন্ডেমিক বহু দেশে, বিশেষ করে অল্পবয়সি শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য ম্যালেরিয়া এখনো মারাত্মক অসুস্থতা ও মৃত্যুর একটি বড় কারণ, যদিও রোগটি প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য। ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটিতে বারবার ম্যালেরিয়া হলে রক্তাল্পতা, শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া এবং নিয়মিত পড়াশোনা বা কাজ করতে না পারার মতো সমস্যা তৈরি হয়, যা পরিবারগুলোকে অসুস্থতা ও দারিদ্র্যের চক্রে আটকে রাখে। কীটনাশকযুক্ত মশারি, ঘরে কীটনাশক স্প্রে, দ্রুত রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা এবং কার্যকর অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধ ব্যবহার অনেক এলাকায় মৃত্যুহার কমিয়েছে, তবে যেখানে কভারেজ সম্পূর্ণ নয় বা ভঙ্গুর, সেখানে সাম্প্রতিক বছরে অগ্রগতি কিছুটা থেমে গেছে। বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে, পুনরুত্থান ঠেকাতে অব্যাহত মনোযোগ ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।
History
২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে, যখন WHO সদস্য রাষ্ট্রগুলো এ তারিখকে বার্ষিকভাবে নির্ধারণ করে ম্যালেরিয়াজনিত বৈশ্বিক রোগভারকে স্বীকৃতি দেওয়া ও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। পূর্বের আঞ্চলিক উদ্যোগগুলো থেকে বিকশিত হয়ে এই দিবসটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিক রূপ পায়, যাতে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত দিকনির্দেশনা ও কমিউনিটি পর্যায়ের কার্যক্রমের জন্য একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ দিবস সরকার, অনুদানসংস্থা ও সিভিল সোসাইটিকে একত্রিত করে ম্যালেরিয়াজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু কমানোর লক্ষ্যে প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে।
Key facts
Common conditions
- আনকমপ্লিকেটেড ম্যালেরিয়া
- সিভিয়ার ম্যালেরিয়া
- Plasmodium falciparum সংক্রমণ
- Plasmodium vivax সংক্রমণ
- কাঁপুনি সহ জ্বর
- গর্ভাবস্থায় ম্যালেরিয়া
Who is most affected
- এন্ডেমিক এলাকার অল্পবয়সি শিশু
- গর্ভবতী নারী
- বনাঞ্চল বা পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষ
- স্বল্প আয়ের গ্রামীণ পরিবার
- যাদের স্বাস্থ্যসেবায় পৌঁছানো কঠিন
What you can do
- কীটনাশকযুক্ত মশারির নিচে ঘুমানো
- কোনো কারণ ছাড়াই জ্বর হলে দ্রুত ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করানো
- চিকিৎসকের দেওয়া অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধের সব ডোজ শেষ করা
- ঘরে কীটনাশক স্প্রে কর্মসূচিতে সহযোগিতা করা
- ভ্রমণের আগে স্থানীয় ম্যালেরিয়া ঝুঁকি সম্পর্কে জানা
In Bangladesh
বাংলাদেশে ম্যালেরিয়ার কেস প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় বেশি, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ স্ত্রী Anopheles মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল। সরকারি কর্মসূচি ও অংশীদার সংস্থাগুলো এসব অঞ্চলে বিনামূল্যে দীর্ঘস্থায়ী কীটনাশকযুক্ত মশারি বিতরণ, নির্বাচিত এলাকায় ঘরে কীটনাশক স্প্রে এবং দ্রুত রোগ নির্ণয়ের জন্য র্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট ব্যবহার করে, যাতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়। বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমকে আরও জোরালো করা, পাহাড়ি কমিউনিটিতে জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব বোঝানো এবং নিয়মিত মশারি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়, যাতে সংক্রমণ আরও কমে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
- ম্যালেরিয়া কীভাবে ছড়ায়?
- Plasmodium পরজীবীবাহী সংক্রমিত স্ত্রী Anopheles মশার কামড়ের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া ছড়ায়।
- বাংলাদেশের কোন এলাকায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বেশি?
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
- ম্যালেরিয়া কি প্রতিরোধযোগ্য?
- হ্যাঁ, কীটনাশকযুক্ত মশারি ব্যবহার, ঘরে স্প্রে করা ও জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়।

