মূল কন্টেন্টে যান

আমরা নিয়মিত তথ্য যোগ ও যাচাই করছি। কোনো তথ্য অনুপস্থিত বা ভুল মনে হলে আমাদের জানান, আমাদের টিম কাজ করছে। জানান

MedIndex
World Polio Day poster with a health worker giving polio drops to a child, vaccination symbols, and messages about ending polio and protecting every child

স্বাস্থ্য দিবসOctober 24

বিশ্ব পোলিও দিবস

প্রতি বছর ২৪ অক্টোবর বিশ্ব পোলিও দিবস পালিত হয় ডা. জোনাস সল্ক–এর জন্মদিনকে স্মরণ করে, যিনি প্রথম সফল পোলিও ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেন, এবং পোলিও নির্মূলের বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে সামনে আনতে। পোলিওমাইলাইটিস বা পোলিও হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের আক্রান্ত করে। ভাইরাসটি দূষিত পানি, খাবার বা অপরিষ্কার হাতে মুখে প্রবেশ করে প্রথমে অন্ত্রে বৃদ্ধি পায় এবং কিছু ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্রে ছড়িয়ে গিয়ে হাত–পা স্থায়ীভাবে অবশ করে দিতে পারে; শ্বাস–প্রশ্বাসের পেশি আক্রান্ত হলে মৃত্যুও হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভ্যাকসিন আসার আগে পোলিও–র মহামারী মানুষকে ভীষণ ভয় ও দুর্ভোগে রাখত; প্রতি বছর অসংখ্য শিশুর হাত–পা অবশ হয়ে যেত বা মৃত্যু হতো। একবার পক্ষাঘাত হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনার কোনো চিকিৎসা নেই; কেবল সহায়ক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন দেওয়া যায়। কিন্তু নিরাপদ ও কার্যকর পোলিও ভ্যাকসিন সময়মতো দিলে এ রোগকে পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই টিকাদানই পোলিও প্রতিরোধের মূল ভরসা।

বিশ্ব পোলিও দিবস মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর সব দেশ থেকে পোলিও সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত কাজ থামিয়ে দেওয়া যাবে না। যতদিন কোনো দেশে পোলিও ভাইরাস থাকবে, ততদিন অন্য দেশগুলোও ঝুঁকিমুক্ত নয়, কারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যমে ভাইরাস সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই উচ্চ টিকাদান কাভারেজ, হঠাৎ নিস্তেজ বা অবশ হয়ে যাওয়া শিশুদের (acute flaccid paralysis) দ্রুত শনাক্ত ও রিপোর্ট করা এবং ভাইরাস ধরা পড়লে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া—এ সবই পোলিও নির্মূলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

History

১৯৮৮ সালে বিশ্বের বিভিন্ন সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), রোটারি ইন্টারন্যাশনাল, ইউনিসেফ ও সিডিসি (CDC) একসঙ্গে গ্লোবাল পোলিও ইরাডিকেশন ইনিশিয়েটিভ (GPEI) চালু করে। তখন প্রতি বছর সারা বিশ্বে কয়েক লক্ষ শিশু পোলিওতে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছিল।

এরপর থেকে ধারাবাহিক বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় বারবার গণটিকাদান কর্মসূচি ও রুটিন ইমিউনাইজেশনে মুখে খাওয়ার পোলিও ভ্যাকসিন (OPV) এবং পরবর্তী সময়ে ইনজেকশন–এর মাধ্যমে দেওয়া ইনঅ্যাক্টিভেটেড পোলিও ভ্যাকসিন (IPV) ব্যবহারের ফলে বিশ্বব্যাপী পোলিও রোগীর সংখ্যা ৯৯ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। বহু অঞ্চল ইতোমধ্যে পোলিওমুক্ত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যদিও কিছু দেশে এখনো পর্যাপ্ত টিকাদানের অভাব ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্য পোলিও ভাইরাস বা ভ্যাকসিন–উৎসারিত পোলিও ভাইরাসের খবর পাওয়া যায়।

বিশ্ব পোলিও দিবসে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থা “End Polio Now” বা “One Day, One Focus: Ending Polio”–এর মতো স্লোগান সামনে এনে অর্জিত সাফল্য, বাকি চ্যালেঞ্জ ও মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে।

Key facts

কোনো নিরাময় নেই, কেবল প্রতিরোধ

  • পক্ষাঘাত হওয়ার পরে পোলিও সারিয়ে তোলার ওষুধ নেই; টিকাই একমাত্র কার্যকর সুরক্ষা।

প্রধান ঝুঁকিতে শিশু

  • পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই পোলিওতে বেশি আক্রান্ত হয়
  • তাই ছোটবেলা থেকেই বারবার টিকা দেওয়া জরুরি।

সংক্রমণের পথ

  • পোলিও ভাইরাস সাধারণত মল–মুখ (faeco‑oral) পথ দিয়ে ছড়ায়—দূষিত পানি
  • খাবার বা অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে।

ভ্যাকসিনের ধরন

  • মুখে দেওয়া পোলিও ভ্যাকসিন (OPV) ও ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া ইনঅ্যাক্টিভেটেড পোলিও ভ্যাকসিন (IPV)—দুই ধরনের ভ্যাকসিনই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে ব্যবহৃত হয়।

নির্মূলের লক্ষ্য

  • ছোটpox–এর মতো পোলিওও এমন একটি রোগ
  • যাকে পুরো বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বন্য পোলিও ভাইরাসমুক্ত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী রুটিন ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রাম (EPI) এবং বহু বছর ধরে আয়োজিত জাতীয় গণটিকাদান কর্মসূচি (National Immunization Days), যেখানে লাখো স্বেচ্ছাসেবক ও স্বাস্থ্যকর্মী দেশের প্রতি প্রান্তে গিয়ে শিশুদের মুখে পোলিও কণিকা খাইয়েছেন। রুটিন টিকাদান ক্যালেন্ডারে পোলিও ভ্যাকসিনের বিভিন্ন ডোজ নির্ধারিত আছে এবং সরকারি টিকাকেন্দ্রে এগুলো বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

বিশ্ব পোলিও দিবসে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ইপিআই, শিশু বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিভিন্ন এনজিও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, র‍্যালি, টকশো ও প্রয়োজনে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম আয়োজন করে। মূল বার্তা থাকে—কোনো শিশুই যেন পোলিও টিকা থেকে বাদ না পড়ে, নির্ধারিত বয়সে সব ডোজ সম্পূর্ণ করতে হবে এবং OPV–এর পাশাপাশি IPV–এর ডোজও নিতে হবে। অভিভাবকদের বোঝানো হয় যে টিকা নিরাপদ, কার্যকর এবং আজীবন পঙ্গুত্ব থেকে শিশুকে রক্ষা করতে পারে।

একই সঙ্গে আকস্মিকভাবে শিশুর হাত–পা দুর্বল বা অবশ হয়ে গেলে (acute flaccid paralysis) তা দ্রুত রিপোর্ট করা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং টিকাদান কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত বাজেট ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব পোলিও দিবস একটি সাফল্যের উৎসব, আবার একই সঙ্গে সতর্কবার্তা—পোলিওমুক্ত অবস্থান ধরে রাখতে নিয়মিত টিকাদান ও জনগণের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

পোলিও কী ধরনের রোগ?
পোলিও বা পোলিওমাইলাইটিস হলো একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত ছোট শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। ভাইরাসটি দূষিত পানি, খাবার বা অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে এবং কখনো কখনো স্নায়ুতন্ত্রে গিয়ে হাত–পা স্থায়ীভাবে অবশ করে দিতে পারে, এমনকি শ্বাসের পেশি আক্রান্ত হলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
পোলিও কি একবার হলে ভালো হয়ে যায়?
না। পোলিও ভাইরাস স্নায়ু নষ্ট করে দিলে যে পক্ষাঘাত বা অবশতা হয়, সেটি সাধারণত স্থায়ী থাকে; সেটিকে পুরোপুরি সারিয়ে তোলার ওষুধ নেই। তাই পোলিওর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রোগ হওয়ার আগেই টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা।
শিশুকে কেন একাধিকবার পোলিও টিকা দিতে হয়?
শিশুর শরীরে শক্ত ও দীর্ঘমেয়াদি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে নির্দিষ্ট বিরতিতে একাধিক ডোজ OPV ও IPV দেওয়া হয়। একবার টিকা নিলে সব সময় পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি নাও হতে পারে; তাই বারবার ডোজ দিয়ে নিশ্চিত করা হয় যে শিশুটি পুরোপুরি সুরক্ষিত হয়েছে।

সম্পর্কিত স্বাস্থ্য দিবস

এই পাতা শেয়ার করুন